সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১২

অমুক ব্যাংক এর তমুক সংবাদ

সময়ের অভাবে আজকাল খুব একটা টেলিভিশন দেখা হয় না। ছোটবেলায় পরিবারের সবাই মিলে টিভি দেখতাম। সিন্দবাদ, রবিন হুড, আলিফ লায়লা, ইত্যাদি দেখার জন্য কত মার খেয়েছি আম্মার হাতে। যেদিন লোডশেডিং হতো সেদিন বিদ্যুত এর লোকদের অভিশাপ দিয়ে গুশ্টি উদ্ধার করতাম। সবচেয়ে বিরক্তিকর ছিল বিটিভির নিউজ এট টেন (১০টার ইংরেজি সংবাদ)। 


দিন যায়, সময় যায়। বাসায় ডিশ আসার পর উঠতি বয়স, বিফোর-ইউ চুপি চুপি। সবার সামনে একুশে টিভি, এটিএন, চ্যানেল আই আর এনটিভি। 
খবর দেখার নেশা হয়ে গিয়েছিল। বাপ বেটা দুজনে বসে কত খবর ই না দেখতাম। আম্মা রাগ করত। "এই বয়সে আমার ছেলেটাকে পাকা বানিয়ে ছাড়বা।" আমাদের বলতো-"বাপের মত পাগল হবি নাকি, যা ঘুমাতে যা!!" আব্বার আর আমার এক কান দিয়ে কথা ঢুকত আরেক কান দিয়ে বেড় হতো।" এগুলো এখন শুধুই অতীত।


আজ এক বন্ধু ফোন করে বলল-"চ্যানেল আই টিভিতে অনেক সুন্দর গানের অনুষ্ঠান হচ্ছে- ক্ষুদে গানরাজ। দেখ মজা পাবা।" বন্ধুর অনুরোধে হলের টিভি রুমে গিয়ে দেখি ক্ষুদে গানরাজ অনুষ্ঠানে ছোট ছোট বাচ্চারা গান গাইছে। আসলেই সুন্দর। সাড়ে দশটায় সংবাদ। সুন্দরী দুই উপস্থাপিকা সংবাদ শুরু করলেন। নারায়ণগঞ্জের শামীম সাহেব ও আইভি আপার খবর, গাদ্দাফি আংকেল খবর......আরো খবর। এবার ড্যাশ ব্যাংক বিদেশের সংবাদ, একটু পর ড্যাশ ব্যাংক কৃষি সংবাদ তারপর ড্যাশ ব্যাংক বানিজ্য সংবাদ। দুই মিনিট পর ড্যাশ ব্যাংক বিরতি। ডজন খানেক বিজ্ঞাপনের পর আবার সংবাদ। শুরু হল আবারো ড্যাশ ব্যাংক ভিন্ন সংবাদ, একটু পর ড্যাশ ব্যাংক অর্থনীতির সংবাদ তারপর ড্যাশ ব্যাংক খেলার সংবাদ। হফফফফ্ মেজাজ টা চুরান্ত গরম। পাশে বসা জুনিয়রটাকে বললাম-"চ্যানেলটা পাল্টাও না হলে টিভিটা ভেঙ্গে ফেলব " সে বলল-"ভাই কুন চ্যানেল দিব সব চ্যানেল এর একই অবস্থা।"

চ্যানেল পাল্টিয়ে সত্যি সত্যি এর প্রমাণ পেলাম। শুধু বিজ্ঞাপণ আর বিজ্ঞাপণ। কি আর করা, শেষ পর্যন্ত টিভি রুম থেকে চলেই আসলাম।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন